পোস্টের হায়ারারকিক্যাল ডেপথ কন্ট্রোল

আজকে আমরা দারুন একটি কাজ করবো। আর দারুন কাজটি হবে আমাদের কাল্পনিক ক্লায়েন্ট মিঃ খুতখুত এর জন্য। মিঃ খুতখুত বাংলাদেশ নিয়ে একটি তথ্য বহুল সাইট বানাতে চাচ্ছেন। যেখানে বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলার বিস্তারিত বর্ণনা থাকবে। প্রতিটি জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, দূর্লভ এবং চমৎকার দৃষ্টি নন্দন সব ছবি নিয়ে গ্যালারী, ভিডিও আর্কাইভ এসব থাকবে। আবার প্রতিটি বিভাগ (বর্তমানে ৮ টি) আলাদা করে গুরুত্ব পাবে। প্রতিটি বিভাগে গেলে সে বিভাগের আওতাভুক্ত জেলা গুলি দেখা যাবে এবং সেখানে থেকে আবার প্রতিটি জেলাতে ক্লিক করে সেসব জেলার ডিটেইলস দেখা করা যাবে। আবার মিঃ খুতখুত চাচ্ছেন জেলাগুলি যেনো হায়ারারকিক্যাল হয় মানে কোন বিভাগে কোন জেলার বা কোন জেলা কোন বিভাগের অন্তর্গত সেই রিলেশনটা যেনো মেনে চলা হয়।

এনালাইসিস এবং ডিসিশন

খুবই সিম্পল রিকোয়ারমেন্ট, তাইনা? আমরা জানি পেজ একটি হায়ারারকিক্যাল পোস্টটাইপ, যেখানে একটি পেজকে আরেকটি পেজের প্যারেন্ট হিসেবে এ্যাসাইন করা যায়। সো, আমরা খুব সহজেই পেজ ব্যবহার করে হায়ারারকির কাজটি করে ফেলতে পারি। কিন্তু আমরা পেজ ব্যবহার করবো না! কারণ এ মিঃ খুতখুতের চাহিদা পূরণের জন্য আমাদের ডেডিকেটেড একটি পোস্টটাইপ দরকার। তাই আমরা পেজের মত (হায়ারারকিক্যাল) একটি কাস্টম পোস্টটাইপ রেজিস্টার করে নিব যার নাম হবে district

নোট: আমরা এখানে খুব সাধারণভাবে রিকোয়ারমেন্ট এনালাইসিস করেছি এবং একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি শুধুমাত্র মূল বিষয়টাকে সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য।

District পোস্টটাইপ রেজিস্ট্রেশন

নিচের কোডটুকু কপি করে আমরা থিমের functions.php তে পেস্ট করি এবং এ্যাডমিন প্যানেলে গিয়ে রিফ্রেশ করি। চমৎকার, আমরা district কাস্টম পোস্টটাইপ রেজিস্টার করে ফেলেছি! 😀

মিঃ খুতখুত দেখলে খবর আছে!

এরপর আমরা কিছু District এ্যাড করবো। আপনি চাইলে নিচের গুলি এ্যাড করতে পারেন ডামি হিসেবে।

Rangpur
– Dinajpur
Rajshahi
– Bogora
Dhaka
– Narayongonj

এট্রিবিউট মেটাবক্স
কুইক এডিট প্যানেল

একি, আমরা যখন প্যারেন্ট হিসেবে ডিভিশন এ্যাসাইন করছি তখন অন্য জেলা গুলি লিস্টে চলে আসছে ক্যানো? ড্রপডাউন বোঝেনা ক্যানো যে আমরা শুধু ডিভিশন গুলি দেখতে চাচ্ছি, কোন জেলা নয়? আসলে এখানে ড্রপডাউনের কোন অপরাধ নেই। ড্রপডাউনকে এভাবেই ইন্সট্রাকশন দেয়া আছে। কিন্তু আমরা এই ইন্সট্রাকশন পরিবর্তন করতে পারি। আমরা যা চাই, যেভাবে চাই তা ড্রপডাউনকে বলে দিতে পারি, দারুন না? মিঃ খুতখুত দেখার আগেই আমাদের এটি সমাধান করে ফেলতে হবে নয়তো খবর আছে! চলুন তাহলে সমাধান করে ফেলি 😛

সমাধান

আমাদের খুব বেশি কিছু করতে হবেনা, শুধুমাত্র দুইটি ফিল্টার হুকের আর্গুমেন্ট পরিবর্তন করেই কাজটি করতে পারি। এট্রিবিউট মেটাবক্সের জন্য page_attributes_dropdown_pages_args এবং কুইক এডিট প্যানেলের জন্য quick_edit_dropdown_pages_args। এই ফিল্টার হুক দুটি কি কি আর্গুমেন্ট নিয়ে কাজ করে জানতে হলে আমাদের একটু ওয়ার্ডপ্রেসের কোর থেকে ঘুরে আসতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেস কোর দেখে আমরা জানতে পারলাম যে wp_dropdown_pages() ফাংশনটি ব্যবহার করে ড্রপডাউনটি বানানো হচ্ছে। এই ফাংশনটিতে depth নামের একটি আর্গুমেন্ট পাস করা হয় যা দিয়ে মূলত হায়ারারকির লেভেল কন্ট্রোল করা হয়। ডকুমেন্টেশন দেখে আমরা নিশ্চিত বলতে পারি যে আমরা যদি depth এর ভ্যালু 1 সেট করে দেই তাহলে আমরা আমাদের সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে। আমরা শুধুমাত্র টপলেভেল ডিসট্রিক্ট বা ডিভিশন গুলি দেখতে পারবো।

চলুন নিচের কোডটুকু কপি করে আমাদের functions.php তে পেস্ট করি এবং ডিসট্রিক্টের লিস্ট পেজ অথবা এডিট পেজ রিফ্রেশ করি।

ফিল্টার হুক দুটি, post_type নামের একটি আর্গুমেন্ট পাস করে যার মাধ্যমে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা শুধুমাত্র district কাস্টম পোস্টটাইপের হায়ারারকি লেভেল কন্ট্রোল করছি, নয়তো খবর আছে 😛 । চলুন এবার দেখে আসি আমাদের ফাইনাল রেজাল্ট কি হলো –

কুইক এডিট প্যানেল

দারুন আমরা সমস্যা সমাধান করে ফেলেছি 😎

 

মূল্যবান সময় ব্যয় করে মিঃ খুতখুতের রিকোয়ারমেন্ট পূরণের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 😀

৫ টি কন্সট্যান্টের শক্তিতে ওয়ার্ডপ্রেস ডিবাগিং

সর্বদা define( 'WP_DEBUG', true ); যখনই করিব প্লাগিন কিংবা থিম শুরু!

বাগ যদি হয় ছাড়পোকা তবে ডিবাগিং হলো সেসব ছাড়পোকাদের খুঁজে খুঁজে বের করে ঢিসুয়া ঢিসুয়া করে টিপে মারা। ছোট একটা ছাড়পোকা যেমন রাতের শান্তির ঘুম হারাম করে দিতে পারে, তেমনি একটা বাগও পারে ডেভেলপারের শান্তির রাজ্য তুলকালাম করে দিতে। আর তাইতো ডিবাগিং নিয়ে যতো মাথা ব্যাথ্যা!

ডিবাগিং প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে ওয়ার্ডপ্রেসে অনেকগুলি প্রিডিফাইন্ড কন্সট্যান্ট রয়েছে (কন্সট্যান্ট হলো গ্লোবাল ভ্যারিয়েবলের মত কিন্তু এর মান পরিবর্তন করা যায়না)। আমরা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সেসব কন্সট্যান্টের নির্দিষ্ট মান সেট করে কিংবা পরিবর্তন করে তার পূর্ণ ফায়দা নিতে পারি। আর নিজেকে রক্ষা করতে পারি সম্ভাব্য একটি বিচ্ছিরি বাগ এর হাত থেকে!

WP_DEBUG

এই কন্সট্যান্টের ভ্যালু ডিফল্টভাবে false থাকে। এটিকে যদি আমরা true করে দেই তাহলে আমাদের PHP কোডে যত নোটিশ, ওয়ার্নিং, এরর আছে সব দেখাবে (যদি থাকে)। এটি ডিবাগিংয়ের জন্য সব থেকে প্রয়োজনীয় কন্সট্যান্ট। আমরা ‍‍‍‍‍যখন কোন থিম বা প্লাগিন ডেভেলপ করবো অথবা এডিট করব তখনো WP_DEBUG কে true করে নিব। সিনিয়র ডেভেলপাররা সর্বদা এটিকে রিকোমেন্ড করে থাকেন। সুতরাং, সর্বদা define( 'WP_DEBUG', true ); যখনই করিব প্লাগিন কিংবা থিম শুরু 😀

WP_DEBUG_LOG

এই কন্সট্যান্টটি হলো WP_DEBUG এর একটি সহযোগী কন্সট্যান্ট অর্থাৎ এটি WP_DEBUG এর উপর নির্ভরশীল। WP_DEBUG এর মান false হলে এই কন্সট্যান্টটি কাজ করবে না, মান অবশ্যই true হতে হবে। WP_DEBUG_LOG এর মান true করা থাকলে সিস্টেম সব রকমের PHP এরর debug.log নামের একটি ফাইলে সেভ করে রাখবে। ফাইলটি সেভ হলে wp-content ডিরেক্টরিতে থাকবে। যেহেতু এররগুলি ফাইলে সেভ করা থাকবে সেহেতু আমাদের যখন ইচ্ছে আমরা দেখতে পারবো। মজার বিষয় হলো আমরা চাইলে error_log() ফাংশন ব্যবহার করে debug.log ফাইলে কাস্টম কিছু লিখতেও পারি। এজাক্স রিকোয়েস্ট ডিবাগিং এ যা বেশ কার্যকরী একট উপায়। ডিফল্টভাবে এই কন্সট্যান্টের মান false থাকে।

WP_DEBUG_DISPLAY

এটি WP_DEBUG এর আরেকটি সহযোগী কন্সট্যান্ট অর্থাৎ এটিও WP_DEBUG এর উপর নির্ভরশীল। WP_DEBUG এর মান false হলে এই কন্সট্যান্টটি কাজ করবে না, মান অবশ্যই true হতে হবে। WP_DEBUG_DISPLAY কন্সট্যান্টটির মান true হলে আমাদের থিম বা প্লাগিনের এরর, ওয়ার্নিং এবং নোটিশ গুলি আমরা ব্রাউজারে দেখতে পারবো আর false হলে দেখতে পারবো না। ডিফল্টভাবে এই কন্সট্যান্টের মান true থাকে।

SCRIPT_DEBUG

নামেই কর্ম পরিচয়! নাম দেখেই বোঝা যায় এটি স্ক্রিপ্ট ডিবাগিং এর জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে জাভাস্ক্রিপ্ট ছাড়াও এটি সিএসএস এর জন্যও ব্যবহার হয়। ওয়ার্ডপ্রেস সাধারণত কোর CSS এবং JS ফাইলগুলিকে একত্র করে মিনিফাইড ভার্সন সার্ভ করে থাকে। তাই ননমিনিফাইড বা ডেভেলপমেন্ট ভার্সনের স্ক্রিপ্ট এবং সিএসএস প্রয়োজন হলে SCRIPT_DEBUG এর ভ্যালু true সেট করতে হবে। বিভিন্ন থার্ডপার্টি প্লাগিন এবং থিমও এই কন্সট্যান্টটির উপর নির্ভর করে মিনিফাইড এবং ননমিনিফাইড ফাইল সার্ভ করে থাকে। আমরাও চাইলে এই সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারি নিচের মত করে –

SAVEQUERIES

এই কন্সট্যান্টটি ব্যবহার করা হয় ডাটাবেজের কুয়েরি ডিবাগিংয়ের জন্য। SAVEQUERIES এর মান true সেট করা হলে সব ডাটাবেজ কুয়েরি গুলি এ্যারে আকারে গ্লোবাল $wpdb->queries এ স্টোর হয়ে থাকে। আমরা $wpdb->queries কে প্রিন্ট করে যেসব কুয়েরি রান করেছে সেসব দেখতে পারি এবং কুয়েরি চলতে কি পরিমাণ সময় লেগেছে তাও জানতে পারি।

ডাটাবেজ কুয়েরি ডিবাগিংয়ের জন্য WP Debug Bar টি দারুন একটি প্লাগিন এবং মজার বিষয় হলো এই প্লাগিনটি SAVEQUERIES কন্সট্যান্টের উপর নির্ভরশীল! SAVEQUERIES এর মান false থাকলে প্লাগিনটি কাজ করবে না।

বি.দ্র. – এই লেখাটি Debugging in WordPress এর উপর নির্ভর করে লেখা।

— ধন্যবাদ 🙂

আমি কিভাবে শিখব? পর্ব: সোর্সকোড

ধরুন, আপনি একই ধরনের দুটি ফাংশন নিয়ে কাজ করছেন অথবা কোথাও দেখলেন। যেমন: the_title() এবং get_the_title() কিংবা esc_attr__() এবং esc_attr_e() । এখন আপনার যদি এ নিয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকে তবে স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আচ্ছা এ দুটির পার্থক্য কি? তখন এ উত্তর জানার জন্য আপনি কি করবেন?

আপনি কি WordPressians এ গিয়ে প্রশ্ন করবেন, নাকি Stack Overflow তে গিয়ে প্রশ্ন করবেন, নাকি এক্সপার্ট কাউকে ইনবক্স করবেন, নাকি এক্সপার্ট কাউকে সামনা-সামনি জিজ্ঞেস করবেন! আপনি কি করবেন?

আমার সাজেশন হলো আপনি সোর্সকোড দেখুন। সোর্সে দেখুন ফাংশন দুটির ডেফিনেশনে কি লেখা আছে। তারপর সেখানে পার্থক্য খুঁজুন। যদি প্রথমবার বুঝতে কষ্ট হয় তবে পুনরায় দেখুন, যদি তাও বুঝতে সমস্যা হয় তবে আবার দেখুন। সময় নিয়ে বুঝে বুঝে কোড পড়ুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন। এরপরও যদি বুঝতে সমস্যা হয় তখন প্রশ্ন করুন যে, আমি এরকম এরকম পার্থক্য দেখলাম কিন্তু এই এই বিষয়গুলি বুঝতে পারিনি। আপনি নিশ্চিত থাকুন, পূর্বে আপনি যে ধরনের সহায়তা পেতেন তার চেয়েও আরো বেশি আন্তরিক সহায়তা পাবেন। কারণ এতে আপনার জানার আগ্রহ, ক্ষুধা, প্যাশন প্রকাশ পাবে।

আপনি যদি এই চর্চা অব্যহত রাখেন, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি আপনি অনেক দ্রুত শিখতে পারবেন এবং পুরো সিস্টেম কিভাবে কাজ করছে এবং কোথায় কখন কি ঘটছে সবকিছু বুঝতে পারবেন। এবং নিশ্চিতভাবে এই চর্চা আপনাকে একজন ভালো মানের ডেভেলপার হতে অনেক সহায়তা করবে।

সোর্সকোড দ্রুত নেভিগেট করার জন্য এবং যে কোন ফাংশন বা ক্লাস থেকে তার ডেফিনেশনে যাবার জন্য একটি ভালো মানের কোড এডিটর অথবা IDE (Integrated Development Environment) অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। আপনি Sublime Text, VS Code, PHPStrom এ ধরনের এডিটর/IDE ব্যবহার করতে পারেন।

আমি এভাবেই শিখি 🙂